শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
উচ্চ তাপমাত্রা, সংঘাত ও সংকট ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত পঙ্গু হাসপাতালে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ বলেছিল হাসিনা ৫ আগস্টের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি সরকারি ৭ কলেজকে পাঠদানে নতুন কাঠামো ঘোষণা এক বছরে রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতায় বিএনপি ৯২%, ঘটনায় জড়িত আগামী সপ্তাহে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প গাজায় জিম্মিদের বিষয়ে বৈঠকে বসবে নিরাপত্তা পরিষদ: ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গণঅভ্যুত্থানের এক বছর: বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা, হাসিনার পতনের ইঙ্গিত

এক দফার প্রকৃত ঘোষক বাংলাদেশের জনগণ: নাহিদ

অনলাইন ডেস্ক / ৭৮২ জন দেখেছেন
আপডেট : August 3, 2025
এক দফার প্রকৃত ঘোষক বাংলাদেশের জনগণ: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই ঐতিহাসিক এক দফা কোন ব্যক্তি, দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি। সেদিন এই এক দফা ঘোষণা করা হয়েছিলো বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে। ফলে এক দফার প্রকৃত ঘোষক হলেন বাংলাদেশের জনগণ।

রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনসিপির সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ ঐতিহাসিক ৩ আগস্ট। এক বছর পার হচ্ছে এ দিনের। ঠিক এক বছর আগে আমরা শহীদ মিনারে সমাবেত হয়েছিলাম। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের মানুষ, এই ঢাকা শহরের মানুষ শহীদ মিনারে নেমে এসেছিল। এখান থেকে আমরা ফ্যাসিবাদি বিলুপের ঐতিহাসিক ১ দফা ঘোষণা করেছিলাম।

জুলাইয়ে বিপ্লবের যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জনতা রাজপথে নেমেছিল সে আকাঙ্ক্ষা বিপ্লবের বছর ঘুরতেই ফিকে হতে শুরু করেছে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অব্যক্ত যেই ঘোষণা সেদিন নাহিদ-আসিফরা উচ্চারণ করতে পারেনি সেই ঘোষণা পাঠের আয়োজনে শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছে এনসিপির কর্মী সমর্থকরা।

বিকেল ৪ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণার কথা থাকলেও সেটি পড়া হয় সন্ধ্যা নামার মুহূর্তে। এর আগে একে একে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রতিশ্রুতি দেন শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান তৈরি ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার।

জুলাইয়ে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্যে ধরে রাখার দিকে দৃষ্টিপাত করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের প্রশ্নে কোনো ছাড় নয় বলে হুঁশিয়ারি দেয় নেতারা। রাষ্ট্রকাঠামোকে পরিশুদ্ধ না করে ঘরে ফিরবেন না বলেও জানান শীর্ষ নেতারা।

এরপরেই পোডিয়ামে দাঁড়ান নাহিদ ইসলাম। সেকেন্ড রিপাবলিকের ২৪ দফা ইশতেহার পাঠ করেন তিনি। রাষ্ট্র গঠনে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান তৈরি ও জুলাই অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেবার অঙ্গিকার করেন। এছাড়া জুলাইয়ের গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, আওয়ামীলীগের সময়ে সংঘটিত সকল গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাইয়ের গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা আওয়ামী লীগের সময়ে সংঘটিত সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করবে এনসিপি।’

এসময় তিনি বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্র গঠনে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান তৈরি করা হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত, কল্যাণমুখী অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ গঠন করা হবে।’

নতুন স্বাধীনতা কেবল সরকার পতনের জন্য ঘটেনি, ফ্যাসিবাদী কাঠামো চিরতরে ভেঙে ফেলার জন্য হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘এক দফা ঘোষক ছিল মূলত বাংলাদেশের জনগণ। আগে যে ৯ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল তা বাস্তবায়নে অক্ষম ছিল সরকার। যেখানে স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ থাকবে না, তেমন দেশ চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে এদেশে একমুখী ও স্বেচ্ছাচারী মতবাদ কায়েম করেছিল বিগত সরকার।’

নাহিদ বলেন, ‘সেকেন্ড রিপাবলিক বাংলাদেশের ২৪ দফা উপস্থাপন করছি। জুলাই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিবে এনসিপি।’

শুধু সরকার পরিবর্তনে ২০২৪ হয়নি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন। ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পরিকল্পনা তুলে ধরে এনসিপি। ফ্যাসিবাদ দূর করার আন্দোলনে যুক্ত থাকা সব পক্ষকে স্মরণ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ইশতেহারগুলো হলো-
১। নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক, ২। জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার, ৩। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, ৪। ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার, ৫। সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন, ৬। জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ৭। গ্রাম পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার, ৮। স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, ৯। সার্বজনীন স্বাস্থ্য, ১০। জাতিগঠনে শিক্ষানীতি, ১১। গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব, ১২। ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্বার মর্যাদা, ১৩। নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন, ১৪। মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি, ১৫। তারুণ্য ও কর্মসংস্থান, ১৬। বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি, ১৭। টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব, ১৮। শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ১৯। জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ২০। নগরায়ন, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা, ২১। জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা, ২২। প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার, ২৩। বাংলাদেশপন্থী পররাষ্ট্রনীতি, ২৪। জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য খবর...