শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
উচ্চ তাপমাত্রা, সংঘাত ও সংকট ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত পঙ্গু হাসপাতালে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ বলেছিল হাসিনা ৫ আগস্টের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি সরকারি ৭ কলেজকে পাঠদানে নতুন কাঠামো ঘোষণা এক বছরে রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতায় বিএনপি ৯২%, ঘটনায় জড়িত আগামী সপ্তাহে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প গাজায় জিম্মিদের বিষয়ে বৈঠকে বসবে নিরাপত্তা পরিষদ: ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গণঅভ্যুত্থানের এক বছর: বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা, হাসিনার পতনের ইঙ্গিত

বজ্রপাতের সময় গোসল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক / ৪৪২ জন দেখেছেন
আপডেট : July 30, 2025
বজ্রপাতের সময় গোসল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করছেন বজ্রপাতের সময় পানির সংস্পর্শে থাকা যে কোনো কাজ যেমন গোসল, থালা-বাসন ধোয়া বা হাত ধোয়াও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

আকাশে মেঘ জমলেই অনেকের মনে দানা বাঁধে ভয় বজ্রপাতের। আর এই ভয়টা অমূলক নয় মোটেও। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বজ্রপাতজনিত প্রাণহানির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অনেকে ভাবেন, ঘরের ভেতরে থাকলেই নিশ্চিন্ত—কিন্তু সত্যিটা একটু ভিন্ন। গবেষণা বলছে, ঝড় বা বজ্রপাতের সময় যদি আপনি বাথরুমে থাকেন, গোসল করেন বা রান্না ঘরের পানির সংস্পর্শে থাকেন, তাহলে ঘরের মধ্যেও আপনি নিরাপদ নন।

বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করছেন বজ্রপাতের সময় পানির সংস্পর্শে থাকা যে কোনো কাজ যেমন গোসল, থালা-বাসন ধোয়া বা হাত ধোয়াও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। কারণ বিদ্যুৎ চমক ভবনে আঘাত হানলে তা ধাতব পাইপের মাধ্যমে পানির লাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি প্লাস্টিক পাইপ হলেও ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

বজ্রপাতের সময় যেসব কাজ এড়িয়ে চলা জরুরি:
গোসল করা: ধাতব পানির পাইপ বা ইলেকট্রিক লাইনের মাধ্যমে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ বাথরুমে প্রবেশ করতে পারে।
বাথটাবে থাকা, থালা-বাসন ধোয়া, রান্নার কাজ করা: পানির সংস্পর্শে থাকা যেকোনো কাজ এসময় বিপজ্জনক।
ইলেকট্রনিক্স ব্যবহার: টিভি, কম্পিউটার বা চার্জে থাকা যন্ত্র ব্যবহার করা এসময় ঝুঁকিপূর্ণ।
তারযুক্ত ফোন ব্যবহার: ল্যান্ডফোন ব্যবহার নয়, কর্ডলেস বা মোবাইল ফোনই নিরাপদ।
জানালা বা দরজার পাশে দাঁড়ানো: সরাসরি বিদ্যুৎ প্রবাহের ঝুঁকি এড়াতে ঘরের ভেতরের অংশে অবস্থান করুন।
গাছের নিচে দাঁড়ানো বা কংক্রিট দেয়ালে হেলান দেওয়া: বজ্রপাত গাছ ভেঙে ফেলতে পারে, আর কংক্রিটের মধ্যে থাকা ধাতব তার হতে পারে বিপজ্জনক পরিবাহী।
পানির আশেপাশে থাকা: পুকুর, নদী, সুইমিং পুল বা সমুদ্র তীরবর্তী স্থানে অবস্থান করা একেবারে এড়িয়ে চলতে হবে।
আরও পড়ুন: কোলন ক্যানসারের ৪টি লক্ষণ জানালেন বিশেষজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট

নিরাপদ থাকার জন্য করণীয়:
ঝড় শুরু হলে যত দ্রুত সম্ভব ঘরের ভেতরে চলে যান।
ঘরে না থাকলে গাড়িতে আশ্রয় নিন, জানালা-দরজা বন্ধ রাখুন।
শেষ বজ্রপাতের শব্দ শোনার কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ঘরে অবস্থান করুন।
বাইরে থাকলে গাছ বা ধাতব বস্তু থেকে দূরে সরে যান।
নিরাপদ জায়গা না পেলে পায়ের পাতাকে একসঙ্গে রেখে, হাত দিয়ে কান ঢেকে, মাথা নীচু করে বলের মতো হয়ে বসে থাকুন।
বজ্রপাতে কেউ আক্রান্ত হলে করণীয়:

প্রথমেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরিয়ে আনুন।
দ্রুত হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
আক্রান্ত ব্যক্তি নিশ্বাস না নিলে বা হার্টবিট বন্ধ হয়ে গেলে সিপিআর শুরু করুন এবং চিকিৎসক আসা পর্যন্ত চালিয়ে যান।
বর্তমানে বজ্রপাত একটি সাধারণ কিন্তু মারাত্মক বিপদ হয়ে উঠেছে। তবে সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসরণ করলে নিজে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য খবর...