ক্যানসারকে বলা হয় মরণব্যধি রোগ। এ রোগের নাম শুনেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকে। দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, গত কয়েক দশকে এ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতি বছরই ক্যানসারে মৃত্যু হচ্ছে। যদিও এ রোগের বিভিন্ন কারণ থাকে। তবে লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনতে পারলে এই রোগ এড়ানো সম্ভব।
প্রায় সবারই জানা আছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীরকে রোগ ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি শক্তিশালী করা যায়, তাহলে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যানসার এড়ানোর কয়েকটি উপায় রাজ শামানির পডকাস্টে জানিয়েছেন ডা. তরঙ্গ কৃষ্ণ।
এ চিকিৎসক ৬ অক্ষরের ‘MEDSRX’ নামক একটি সূত্র জানিয়েছেন। যা লাইফস্টাইলে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ। তিনি দাবি করেছেন, এই সূত্র গ্রহণ করা হলে জীবনে ক্যানসারের শঙ্কা থাকবে না। অক্ষরগুলো মূলত সংক্ষিপ্ত রূপ, প্রতিটি অক্ষরেরই পূর্ণ অর্থ রয়েছে। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।
এম, মেডিয়েশন বা ধ্যান:
ডা. তরঙ্গ বলেন, শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেয়া উচিত। বর্তমান লাইফস্টাইল এতটাই চাপপূর্ণ যে, এর প্রভাব সরাসরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় পড়ে। এ কারণে দিনে ধ্যান করার জন্য কিছুটা সময় আলাদা করে রাখা উচিত।
ই, এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম:
প্রতিদিন ব্যায়াম করার জন্য অবশ্যই সময় রাখতে হবে। যোগব্যায়াম উপযুক্ত হলে এটি করুন। আবার জিমে যেতে চাইলে সেটিও পারেন। কোনোটিই যদি সম্ভব না হয়, তাহলে দ্রুত হাঁটুন বা ১০ হাজার কদম দৈনিক হাঁটার লক্ষ্য পূরণ করুন। যেভাবেই হোক শরীরকে সক্রিয় রাখুন ও ঘাম ঝরান।
ডি, ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস:
প্রতিদিন কী খাচ্ছেন, তা কেমন, সেদিকে নজর রাখতে হবে। সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাস বড় ভূমিকা পালন করে। ডা. তরঙ্গ বলেন, খাদ্যাভ্যাস যতটা সম্ভব পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখুন। নিরামিষ ভালো। তবে আপনি আমিষ খেলে মুরগি ও মাছই হতে পারে ভালো বিকল্প। লাল মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।
এস, স্লিপ বা ঘুম:
একজন মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে পর্যাপ্ত ঘুম খুবই প্রয়োজন। গভীর ঘুম মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সবসময় পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করুন। ডা. তরঙ্গ বলেন, আপনি যতটুকুই ঘুমান না কেন, তা ভালো হওয়া উচিত। দিনে যদি ৬ ঘণ্টাও ঘুমাতে পারেন, তাহলে সেটি মানসম্মত হওয়া উচিত। তবে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করুন। সম্ভব হলে রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পর উঠে পড়ুন।
আর, রিলেশনশিপ বা সম্পর্ক:
সম্পর্কের ভূমিকাও কোনো অংশে কম নয়। সম্পর্ক হচ্ছে নিজেদের সম্পর্ক, যা আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। আপনার যদি এমন কোনো মানুষ থাকে, যার সঙ্গে কথা বলার পর মানসিকভাবে সুখী অনুভব করেন, তাহলে তার সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন। কেননা, এটি শারীরিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। এ ব্যাপারে ডা. তরঙ্গ বলেন, সম্পর্ক খারাপ থাকার সময় অন্য কিছু করার প্রশ্নই আসে না মাথায়। এ জন্য মানসম্পন্ন সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দিন।
এক্স, এক্স-ফ্যাক্টর বা নিজেকে খুশি রাখা:
নিজেকে খুশি, সুখী বা ভালো রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডা. তরঙ্গের ভাষ্যমতে―এক্স ফ্যাক্টর হচ্ছে নিজেকে খুশি রাখার জন্য যা কিছু করেন সেসব। এটি হতে পারে আপনার প্রিয় শখ বা কোনো বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে সময় কাটানো। সামগ্রিকভাবে আপনি যখন নিজেকে খুশি রাখবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে।